ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
ইউনূসের পদত্যাগের দাবিতে মাসব্যাপী কর্মসূচির ডাক আ’লীগের

আ’লীগকে কড়া বার্তা দিল অন্তর্বর্তী সরকার

  • আপলোড সময় : ২৯-০১-২০২৫ ১১:৪৩:১৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৯-০১-২০২৫ ১১:৪৩:১৩ অপরাহ্ন
আ’লীগকে কড়া বার্তা দিল অন্তর্বর্তী সরকার
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জীবন বাঁচাতে তার সঙ্গে সঙ্গে আত্মগোপনে চলে যান দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সকল মন্ত্রী-এমপি ও দলটির কেন্দ্র থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে কার্যত ‘অদৃশ্য’ হয়ে পড়ে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ।
তবে বহু জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে দলের সকল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগ। আগামী মাসে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাকের মূল দাবি হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগ। তবে আওয়ামী লীগের দাবির পাল্টা জবাব দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিশ্লেষকরা বলছেন, অবশেষে গা ঝারা দিয়ে নিজেদের সরব উপস্থিতি জানান দেয়ার চেষ্টা করছেন ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের দাবিতে তারা এই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জনরোষের মুখে যেভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়েছে, তাতে এখনই তারা রাজপথে কর্মসূচি পালন করতে পারবে বলে আমার মনে হয় না।
ফেসবুকে যে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ : আইসিটি ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রহসনমূলক বিচার বন্ধের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ২৮ জানুয়ারি রাতে দলটির ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে এ কর্মসূচি ঘোষণা দেন।
পোস্টে বলা হয়, ১৯৭১ সালে সুমহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী বাংলাদেশ আজ ক্ষত-বিক্ষত, রক্তাক্ত জনপদ। অবৈধ ও অসাংবিধানিক জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলদার ইউনূস ও তার দোসরদের সীমাহীন ধ্বংসযজ্ঞ ও তাণ্ডবে ত্রিশ লক্ষ শহিদের আত্মত্যাগ এবং ২ লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রামহানির বিনিময়ে অর্জিত প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি আজ প্রতিহিংসার দাবানলে দাউ দাউ করে জ্বলছে। উগ্র-জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষক ও তার দোসরদের হটাও ও বাংলাদেশ বাঁচাও। দেশের গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। মানবাধিকার আজ ভূ-লুণ্ঠিত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লুপ্ত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ বিসর্জিত। আইনের শাসন অস্তমিত।
ফেসবুকে দেয়া আওয়ামী লীগের কর্মসূচিগুলো হয়েছে : ১-৫ ফেব্রুয়ারি লিফলেট বিতরণ, ৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ, ১০ ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ, ১৬ ফেব্রুয়ারি অবরোধ কর্মসূচি, ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক কঠোর হরতাল। দেশের মানুষের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের এ সব কর্মসূচিতে কোনো প্রকার বাধা প্রদান করা হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানানো হয় ফেসবুকের দেয়া ওই পোস্টে।
খুনিদের মিছিল বরদাশত করবে না অন্তর্বর্তী সরকার : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে, যারা খুনিদের মিছিল বরদাশত করবে না। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম জানান, আওয়ামী লীগের পতাকার নীচে কেউ ‘অবৈধ বিক্ষোভ’ করার সাহস দেখালে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। তিনি আর জানান, বাংলাদেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়ার কোনও ধরনের চেষ্টাকে সুযোগ দেয়া হবে না। তিনি বোঝাতে চান, ইউনূসের সরকার যে কোনও ‘ন্যায্য’ বিক্ষোভের বিরোধী নয়। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর কোনও ন্যায্য বিক্ষোভ বন্ধ বা নিষিদ্ধ করেনি। আমরা সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সাংগঠিনক কর্মকাণ্ডের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। পোস্টে তিনি লেখেন, আগস্টের শুরুতে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো আইনসংগত প্রতিবাদ বন্ধ বা নিষিদ্ধ করেনি। আমরা সমাবেশের স্বাধীনতা ও সংগঠনের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি।
তারি ভাষ্য, গত পাঁচ ও আধা মাসে শুধুমাত্র ঢাকাতেই অন্তত ১৩৬টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে কিছু বিক্ষোভ ব্যাপক যানজট সৃষ্টি করেছে। তবুও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কখনো এসব প্রতিবাদে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ (আ.লীগ) দলকে কি আমরা বিক্ষোভের অনুমতি দেব? জুলাই ও আগস্ট মাসের ভিডিও ফুটেজ স্পষ্টভাবে দেখায় যে, আওয়ামী লীগের কর্মীরা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল, যেখানে কিশোর শিক্ষার্থীসহ ছোট শিশুদেরও হত্যা করা হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন এই দলই জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যা, হত্যা ও তাণ্ডবের জন্য দায়ী। ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ২৮ জানুয়ারি তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, সংস্থাটির সাক্ষাৎকার নেয়া কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, হাসিনা সরাসরি হত্যাকাণ্ড ও গুমের আদেশ দিয়েছেন তার ১৬ বছরের স্বৈরশাসনের সময়। তিনি একটি চোর তন্ত্র এবং হত্যার রাজত্ব কায়েম করেছেন। তার শাসনামলে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার লুটপাট করা হয়েছে, যা তার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী বিদেশে পাচার করেছে বলে একটি স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার পরিবার এখন বহুমিলিয়ন ডলারের দুর্নীতির তদন্তের মুখে। এছাড়া, তার শাসনামলে ৩,৫০০ জন গুমের শিকার হয়েছেন। ৩,০০০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, শাপলা চত্বরের গণহত্যা ও মাওলানা সাঈদীর রায়ের পর প্রতিবাদী জনতাকে দমন করা হয়েছে, পুলিশের ভূমিকা হয়ে উঠেছিল ‘পুলিশ লীগ’, ছয় মিলিয়ন বিরোধী কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেয়া হয়েছে, দেশের প্রথম হিন্দু প্রধান বিচারপতিকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়, তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয় এবং নির্বাসনে পাঠানো হয়। ফেসবুক স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম লেখেন, আওয়ামী লীগ যদি তাদের এই গণহত্যা, হত্যাকাণ্ড ও দুর্নীতির জন্য জাতির কাছে ক্ষমা না চায়, যদি অপরাধী নেতাকর্মীরা বিচারের আওতায় না আসে, যদি তারা তাদের ফ্যাসিস্ট আদর্শ ত্যাগ না করে তাহলে তাদের কোনোভাবেই বিক্ষোভ করার অনুমতি দেয়া হবে না। মিত্র বাহিনী কি নাৎসিদের বিক্ষোভ করতে দিয়েছিল? বিশ্বের কোনো দেশ খুনি ও দুর্নীতিবাজদের আবার ক্ষমতায় ফেরার সুযোগ দেয় না। কোনো দেশ বিচার ছাড়া পুনরুদ্ধার বা পুনর্গঠনের অনুমতি দেয় না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করে, যারা খুনিদের মিছিল বরদাশত করবে না। আওয়ামী লীগ যদি বেআইনি বিক্ষোভ করার চেষ্টা করে, তাহলে তারা আইনের পূর্ণ শক্তির মুখোমুখি হবে।
এদিকে, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে আওয়ামী লীগের দেয়া কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এরআগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে ধানমণ্ডিতে কর্মসূচি দেয় আওয়ামী লীগ। তবে সেখানে একত্রিত হয়ে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে প্রতিরোধ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসকে কেন্দ্র করে নিজের অস্বিত্ব জানান দিতে চায় আওয়ামী লীগ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, গত ১৬ বছর ধরে শাসনের নামে তারা যেভাবে মানুষের হত্যা, নির্যাতন ও গুম করেছে, যত রক্ত তাদের হাতে লেগে আছে, সেগুলোর বিচার না হওয়া পর্যন্ত এদেশের ছাত্র-জনতা আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে দেখতে চায় না। ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে শেখ হাসিনা এবং তার দলকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স